জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য Fojo Media Institute/Linnaeus University-এর সহযোগিতায় AGILE Project-এর অধীন পরিচালিত ‘Stress and Trauma for Journalism Students’ শীর্ষক কোর্স সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সনদ বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন তাঁর অফিসের কনফারেন্স কক্ষে শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ তুলে দেন। এ কোর্সে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন বলেন, ‘Stress and Trauma for Journalism Students’ শীর্ষক কোর্সটি সময়োপযোগী একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়েছে। যারা এ কোর্স সম্পন্ন করেছেন, তাঁদের জন্য এটি একটি মর্যাদাপূর্ণ ও উল্লেখযোগ্য অর্জন। অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীরা তাঁদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার ও জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সাংবাদিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, সাংবাদিকতা রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জাতীয় পর্যায়ের সাংবাদিকদের মাধ্যমে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশিত না হলে মানুষের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে। অতীতের হতাশা ও অনাস্থা যেন ভবিষ্যতেও মানুষের মধ্যে প্রভাব বিস্তার না করে, সে বিষয়ে সাংবাদিকদের সচেতন থাকতে হবে। ভবিষ্যতে এ বিভাগের শিক্ষার্থীরাই সাংবাদিকতার পথিকৃৎ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁদের মানসিক চাপ ও ট্রমার মধ্যে রেখে সঠিকভাবে কাজ করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রশিক্ষণ তাঁদের পেশাগত জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকতা এমন একটি পেশা, যেখানে মানুষের আস্থার জায়গাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কলম সৈনিক হিসেবে সাংবাদিকদের প্রতি মানুষের যে বিশ্বাস ও আস্থা রয়েছে, তা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। প্রত্যেক মানুষের বিবেক ও ব্যক্তিত্ববোধ রয়েছে। সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে সেই বিবেককে জাগ্রত রাখতে হবে এবং কোনোভাবেই বিবেকের সঙ্গে আপস করা যাবে না।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও অপ্রাপ্তির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ বছর অতিক্রান্ত হলেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে বঞ্চনা ও অপ্রাপ্তির বিষয়টি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য মানসিক হতাশা কাটিয়ে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের হতাশা দূরীকরণে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ এবং সরকারের সহযোগিতা অর্জনের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কাজ শুরু করেছে। উপাচার্য বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে সামনে রেখে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। তবে অনেক সময় জনপ্রিয়তার রাজনীতিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবেগকে পুঁজি করে বিভিন্ন স্লোগান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়। এসব উদ্যোগের প্রকৃত উদ্দেশ্য সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থ আদায়, নাকি ব্যক্তিগত বা নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়ন—তা শিক্ষার্থীদের বিবেচনা করতে হবে। এ বিষয়ে সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের সচেতন ও সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বলেন, ‘আর কতদিন আমরা বঞ্চনার ইতিহাস নিয়ে রাজনীতি করব? এবার প্রাপ্তির সময় এসেছে। সেই প্রাপ্য অধিকার আদায়ের জন্য আমাদের আপসহীনভাবে কাজ করে যেতে হবে।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বাস্তবায়নে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আনওয়ারুস সালাম এবং কোর্স পরিচালক ও বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মিনহাজ উদ্দীন উপস্থিত ছিলেন।
কোর্সটি শিক্ষার্থীদের সাংবাদিকতা পেশায় মানসিক চাপ ও ট্রমা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় জ্ঞান, দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের পেশাগত দক্ষতা ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা চর্চায় আরও সমৃদ্ধ করবে।




