logo

Copyright ©2024 Jagannath University. All Rights Reserved

News

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পহেলা বৈশাখ উদ্যাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

  • Published
  • 08 Apr, 2026

পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, বাংলা বর্ষবরণ উদ্‌যাপনকে সামনে রেখে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়-এ একটি প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্‌দীন।

সভায় জানানো হয়, এবারের বাংলা নববর্ষ উদ্‌যাপন দুই দিনব্যাপী বৃহৎ পরিসরে আয়োজনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশ্ববর্তী এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সংগঠন ও স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে উৎসবকে আরও ব্যাপক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার লক্ষ্যে এ আয়োজন করা হচ্ছে।

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য মহোদয় বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের সকল প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এ আয়োজন। সকলের মতামত ও অংশগ্রহণের ভিত্তিতে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি অতীতে বিভিন্ন প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে দাঁড়ানো স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সহযোগিতার কথা স্মরণ করে এবারের আয়োজনেও সর্বস্তরের সহযোগিতা কামনা করেন।

সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোঃ শেখ গিয়াস উদ্দিন, শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হকসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, প্রক্টর, প্রভোস্ট, বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালক, অ্যালামনাই প্রতিনিধিবৃন্দ, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য, ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, ক্যাম্পাসের সাংবাদিক ও কর্মচারী সমিতির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় গঠিত বিভিন্ন উপ-কমিটি তাদের কার্যক্রমের অগ্রগতি ও প্রস্তুতি তুলে ধরেন। উপ-কমিটিগুলোর মধ্যে শিল্প উপকরণ প্রস্তুত, বাজেট প্রণয়ন, র্যা লি আয়োজন, স্পন্সরশিপ, প্রচারণা, শৃঙ্খলা রক্ষা, মিডিয়া কাভারেজ, মেলা পরিচালনা, মঞ্চ ও সাউন্ড ব্যবস্থাপনা, কনসার্ট এবং সাংস্কৃতিক আয়োজন সংক্রান্ত কমিটি উল্লেখযোগ্য।

এছাড়া বিভিন্ন বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠান সফল করতে নানা প্রস্তাব উপস্থাপন করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন অংশগ্রহণমূলক উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তারা আর্থিক ও সাংগঠনিক সহায়তার আশ্বাসও প্রদান করেন।

সভায় অংশ নেওয়া পাশ্ববর্তী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কলেজিয়েট স্কুল, হীড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, গভ. মুসলিম হাই স্কুল, বুলবুল ললিতকলা একাডেমি এবং পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুল-এর প্রতিনিধিরা শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আর্ট প্রতিযোগিতা এবং পৃথক ইভেন্ট আয়োজনের প্রস্তাব দেন।

সভায় আরও জানানো হয়, বর্ষবরণ উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী মেলা, কনসার্ট, বাউল ও লোকজ সংগীত পরিবেশন, আদিবাসী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, বইমেলা আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি পহেলা বৈশাখের দিন ধর্মীয় সম্প্রীতির অংশ হিসেবে মসজিদে দোয়া এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রার্থনার ব্যবস্থাও রাখা হবে।

এছাড়া বর্ষবরণ শোভাযাত্রায় পুরান ঢাকার ঐতিহ্য তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় এবং পুরান ঢাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে এ আয়োজনে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানানো হয়। অনুষ্ঠানের ব্যয় নির্বাহে স্পন্সরশিপ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও পার্শ্ববর্তী প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত অংশগ্রহণে এবারের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান আরও বর্ণাঢ্য ও শোভামণ্ডিত হবে এবং এর মাধ্যমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান সুদৃঢ় করবে।