জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ও গণমাধ্যম বিষয়ক প্রতিষ্ঠান মিডিয়া রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই)-এর মধ্যে যৌথ গবেষণা, উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল ২০২৬) উপাচার্যের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীনের উপস্থিতিতে এমআরডিআই-এর প্রধান নির্বাহী হাসিবুর রহমান এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোঃ শেখ গিয়াস উদ্দিন সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন এমআরডিআই’র উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্যাক্ট-চেকিং কোর্স অন্তর্ভুক্ত করা একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তথ্য যাচাই ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে আরও দক্ষ হয়ে উঠবে। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে অপতথ্য ও ভুয়া খবরের বিস্তার একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ফ্যাক্ট-চেকিং কার্যক্রম জোরদার করা গেলে এই প্রবণতা রোধ করা সম্ভব হবে এবং দেশ ও জাতি গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা যাবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাংবাদিকতায় ইতিবাচক কাজের মূল্যায়ন প্রয়োজন এবং এমআরডিআই’র কার্যক্রম শুধু একটি বিভাগে সীমাবদ্ধ না থেকে সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রসারিত হলে তা কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নে সহায়ক হবে।
সমঝোতা স্মারকের আওতায় এমআরডিআই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের বিদ্যমান ডিজিটাল সাংবাদিকতা কোর্স (সেশন: ২০২৪-২৫)-এর অধীনে তথ্য যাচাই (ভুয়া সংবাদ, ভুল তথ্য, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও ডিজিটাল মিডিয়া সাক্ষরতা) বিষয়ক বিষয়বস্তু পর্যালোচনা ও উন্নয়নে সহায়তা প্রদান করবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আধুনিক সরঞ্জাম ও কৌশল অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
এছাড়া, পরবর্তী পাঠ্যক্রম পর্যালোচনার সময় (সেশন: ২০২৫-২৬) তথ্য যাচাইয়ের ওপর একটি পৃথক কোর্স প্রণয়ন ও অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনে বিভাগকে প্রযুক্তিগত, জ্ঞানগত ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। এমআরডিআই বিভাগের বিদ্যমান তথ্য যাচাই ল্যাব সংস্কার এবং কোর্সের বিষয়বস্তু উন্নয়নেও সহায়তা করবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই চুক্তি সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এমআরডিআই-এর প্রধান নির্বাহী হাসিবুর রহমান বলেন, ফ্যাক্ট-চেকিং ও অপতথ্য প্রতিরোধ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে এই চুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষা ও ব্যবহারিক অনুশীলনের সমন্বয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীরা আরও সমৃদ্ধ হবে এবং উভয় প্রতিষ্ঠানের যৌথ প্রচেষ্টায় ইতিবাচক ফলাফল অর্জিত হবে।
উল্লেখ্য, সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ প্রাথমিকভাবে এক বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূঁইয়া, বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ, প্রক্টর, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পরিচালকবৃন্দ এবং এমআরডিআই’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ অন্যান্য অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোঃ আশরাফুল আলম।

