বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে ‘গুমের অন্ধকার থেকে প্রত্যাবর্তন: স্মৃতি, সংগ্রাম ও প্রেরণায় আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন’ শীর্ষক আলোচনা সভা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী এবং গুম হওয়া পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান সোমবার (১৫ জুন ২০২৬) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, এমপি। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বিভিন্ন আন্দোলনে যারা গুম, নির্যাতন, আহত ও শহীদ হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার এসব নির্যাতিত ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের পাশে থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ, এমপি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নির্বাহী কমিটির সহ-বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু এবং নির্বাহী কমিটির সদস্য সামছুজ্জামান সুরুজ। আরো উপস্থিত ছিলেন জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক এবং প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনসহ বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালকবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে গুমের অন্ধকার থেকে ফিরে আসা আনিসুর রহমান তালুকদার খোকনকে নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী হয়। এ সময় মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, এমপি উপস্থিত ছিলেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আনিসুর রহমান তালুকদার খোকনের সংগ্রাম ও প্রত্যাবর্তনের ঘটনা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নতুন প্রেরণা যুগিয়েছে। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের বহু সাহসী মানুষ আজ এখানে উপস্থিত রয়েছেন এবং তাদের প্রত্যেকের অবদান ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
উপাচার্য আরও বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুম হওয়া সূর্যসন্তানদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে হবে এবং তাদের পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিষ্ঠিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও এগিয়ে নেওয়ার জন্য বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে এবং এ লক্ষ্যে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশকে একটি স্বপ্নের রাষ্ট্রে পরিণত করার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
আলোচনা সভায় বক্তারা আনিসুর রহমান তালুকদার খোকনের রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে গুম ও নির্যাতনের ঘটনাগুলো তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যতে তাঁর সাফল্য কামনা করেন। একই সঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুম হওয়া তিন শিক্ষার্থী—আল আমিন, রাসেল ও রানার পরিবারের সদস্যরা এখনও প্রিয়জনদের অপেক্ষায় রয়েছেন উল্লেখ করে তাদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করা হয়।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মেহেদি হাসান হিমেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব শামছুল আরেফিন।
অনুষ্ঠানে গুম হওয়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আল আমিন, রাসেল ও রানার পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এ সময় পরিবারের সদস্যরা আবেগঘন স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য দেন এবং তাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও বেদনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
এ ছাড়াও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠান শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্মরণে ও পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা ছড়িয়ে দিতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়।

