জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের ১০ম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা এবং ১৬তম ও ১৭তম ব্যাচের নবীন বরণ অনুষ্ঠান মঙ্গলবার (১৬ জুন ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য মহোদয় বলেন, শিক্ষার্থীরাই তাঁর অনুপ্রেরণার প্রধান উৎস এবং তাদের অংশগ্রহণই তাঁকে কাজের স্পৃহা জোগায়। তিনি বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে যেমন নানা সীমাবদ্ধতা ও অপূর্ণতা রয়েছে, তেমনি রয়েছে অসংখ্য সম্ভাবনা। সেই সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে হবে এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান উন্নত করতে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় ভূমিকা অপরিহার্য। তিনি আরও বলেন, অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগ মানবজীবন ও চিকিৎসা খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ডিসিপ্লিন। জীবনধারণ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ বিভাগের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাই একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে। গবেষণায় অগ্রগতি অর্জন করতে পারলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক সীমাবদ্ধতা দূর করা সম্ভব হবে।
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য বলেন, বিভাগের মূল উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম যথাযথভাবে আত্মস্থ করে নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। একই সঙ্গে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের পেশাগত জীবনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও মর্যাদা সমুন্নত রাখতে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
গবেষণা অবকাঠামো উন্নয়নের প্রসঙ্গে উপাচার্য মহোদয় জানান, কেন্দ্রীয় গবেষণাগার (সেন্ট্রাল ল্যাব) প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘদিন আগে একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়ন করা হলেও তা মন্ত্রণালয়ে আটকে ছিল। সম্প্রতি তিনি উদ্যোগ নিয়ে প্রকল্পটিকে মন্ত্রণালয়ের ‘সবুজ পাতায়’ অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং এটি আর্থসামাজিক খাতেও গৃহীত হয়েছে। কেন্দ্রীয় গবেষণাগার প্রতিষ্ঠিত হলে অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য ডিসিপ্লিনের গবেষণার মান আরও সমৃদ্ধ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শামীমা বেগমের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোঃ আবদুল আলীম।
অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয় এবং বিদায়ী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা স্মারক (ক্রেস্ট) প্রদান করা হয়। এ সময় বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
