জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের উদ্দ্যোগে যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ বিষয়ক সচেতনতামূলক কর্মশালা সোমবার (১৩ জুলাই ২০২৬) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, এ ধরনের কর্মশালার আয়োজন অত্যন্ত জরুরি।কমিটি গঠিত হওয়ার পর এবারই প্রথমবারের মতো ফিন্যান্স বিভাগ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কর্মশালার আয়োজন করে। একটি কাঙ্ক্ষিত ও নিরাপদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় গড়তে হলে প্রথমেই আমাদের নিজেদের কমিটমেন্ট নিশ্চিত করতে হবে এবং সচেতন হতে হবে। আমরা যদি নিজেরা সচেতন থাকি এবং আমাদের চোখের সামনে কোনো ধরনের যৌন নিপীড়ন ঘটতে না দেই, তবে আজ থেকেই এ বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ বাস্তবায়ন সম্ভব। সবাইকে এই বার্তা ছড়িয়ে দিতে হবে, যাতে আমাদের ক্যাম্পাস যৌন নিপীড়নমুক্ত একটি নিরাপদ ক্যাম্পাসে পরিণত হয়।
এ সময় তিনি আরো বলেন, ‘যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ’সচেতন হওয়া, নীতিমালার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটির কার্যক্রম, ভুক্তভোগীদের কাউন্সেলিং সহায়তা, অভিযোগ দায়েরের প্রক্রিয়া এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং এ ক্ষেত্রে কাউকে কোন ছাড় না দেওয়া। অতি বিপ্লবী না হয়ে বাস্তবসম্মত ভাবে কাজ করতে হব। অন্তর দিয়ে ধারণ করতে হবে । নি:স্বার্থ ভাবে কাজ করতে হবে, সমালোচনা করলে আগে প্রশ্ন করতে হবে তুমি কি করছে। তাই আরেকজনের চরিত্র হনন করা এটাও একটা যৌন নিপীড়ন।
ফিন্যান্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বায়েজিদ আলীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন ও জবি শিক্ষিক সমিতির সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মোঃ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূইয়া।
‘যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ’ বিষয়ক সচেতনতামূলক কর্মশালায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য উপস্থাপন করেন মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ফারজানা আহমেদ। তিনি যৌন হয়রানি প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ শিক্ষাঙ্গন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ নীতিমালার মূল বিষয়গুলো তুলে ধরেন। কর্মশালায়টি সঞ্চালনা করেন বিভাগের ছাত্র উপদেষ্টা শেখ আলমগীর হোসেন।এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষকমন্ডলী, ছাত্র উপদেষ্টা, যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রের সদস্য ও বিভাগের শিক্ষার্থীবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।




