logo

Copyright ©2024 Jagannath University. All Rights Reserved

News

জবিতে ‘কারবালার চিরন্তন উত্তরাধিকার’: বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

  • Published
  • 16 Jul, 2026
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই ২০২৬, সকাল ৯.৩০টায়) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের Proggapath Society কর্তৃক আয়োজিত‘The Enduring legacy of Karbala: Towards Ethical leadership, Social Justice and State-Building’ শীর্ষক সেমিনার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্‌দীনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে আমীর-ই তেহরিক-ই-খতম-ই নবুয়াত বাংলাদেশ, মুফতি ড. সৈয়দ মোহাম্মদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী ওয়া সিদ্দিকী, পীরসাহেব জৌনপুরী, মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক শাইখ মুহাম্মদ সাইফুল আযম আল-আজহারী, সভাপতি উত্তর আমেরিকা মুসলিম জোট ও খতিব রহমাতুল্লিল আলামিন জামে মসজিদ, স্ট্যামফোর্ড, যুক্তরাষ্ট্র, বিশেষ অতিথি মুফতি সৈয়দ সাইফুল ইসলাম বারী, নায়েবে সাজ্জাদা নশীন, দরবার ই বাডিয়া শরীফ ও প্রতিষ্ঠাতা, তোহফা ফর ম্যানকাইন্ড ও দারূল হিকমাহ গবেষণা কেন্দ্র ও বিশেষ অতিথি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নুরুল্লাহ, চেয়ারম্যান, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ এবং পরিচালক, সেন্টার ফর এক্সেলেন্স ইন টিচিং অ্যান্ড লার্নিং (CETL), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় উপস্থিত ছিলেন।পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুফতি ড. সৈয়দ মোহাম্মদ আনেয়ারুল্লাহ আব্বাসী বলেন, এজিদ বাহিনীর সাথে হোসাইনের দ্বন্দ্ব ছিল রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব। কারবালার ময়দানে যে যুদ্ধ হয়েছে সেটা আমানত রক্ষার যুদ্ধ। ইমাম হোসেন আমানত রক্ষার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে যুদ্ধে গেছেন। আমরা এখনো অনেকে এজিদের উত্তরাধিকারীদের অনুস্মরণ করছি। কারবালার শিক্ষা থেকে আমাদের স্পষ্ট শিক্ষা নিতে হবে জালেমদের বিরুদ্ধে ইনসাফের তরবারি সবসময় মুসলমানদের তৈরি থাকবে। কোন প্রকার মরানাস্ত্র কিন্তু কোন মুসলমান বিঞ্জানীরা তৈরি করেনি, তৈরি করেছে বিধর্মীরা। দুষ্টের দমন ও জালেমেদের বিরদ্ধে কোন আপস হতে পারেনা।
তিনি আরো বলেন, পৃথিবীতে এখন আইনের শাসন নেই, কুরআন ও সুন্নাহর বাইরে কোন শাসন টিকে না। তাই নিজেকে চিনতে হবে, তাহলেই সে সুন্দর ও রাষ্ট্র সম্পকে বুঝতে পারবে। রাসুল (সা:)একটি আদর্শ রাষ্ট্র গঠনের যে আর্দশের কথা বলেছেন সেগুলো আমরা পালন করবো, তাহলেই দেশ থেকে অন্যায় বিদায় হবে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক শাইখ মুহাম্মদ সাইফুল আযম আল-আজহারী বলেন, আল্লাহকে আপনি আপনার অস্তিত্ব থেকে বের করতে পারবেন না । আল্লাহতায়ালা আপনাকে ফাইভ ফ্যাকাল্টি অব সায়েন্স হতে সকল প্ররকার জিনিস দান করেছেন। সুতরাং আপনি তার কাছে ঋণী। মানুষিক শান্তি অবশ্যই সবার প্রয়োজন। কষ্ট করার মনস্তাত্ত্বিক শক্তি আল্লাহ আমাদের দিয়েছেন। তাই আমাদের নিজেকে চিনতে হবে এবং আল্লাহর নিয়ম কানুন আমাদের মেনে চলতে হবে এবং প্রোপাগান্ডা থেকে আমাদেরকে দূরে থাকতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্‌দীন বলেন, আজকের সেমিনারটি হলো আত্মার খোরাক যোগানোর সেমিনার। আমি অন্তর দিয়ে বিশ্বাস করি এই সেমিনারটি আমাদের আত্মার ফুয়েল যোগাবে। ৬৮০ খ্রি: ১০ মহররম ১৩৪৬ বছর পূর্বের সেই কাহিনী আমাদের কে মনে করে করিয়ে দেয় কারবালার সেই ঘটনা। তাই আমাদেরকে আল্লাহ ও রাসুল (সা:) কে অন্তরে ধারণ করতে হবে। মুসলমানদের যাবতীয় কাজ শিখিয়েছে সত্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে। আমাদের অন্তরের মধ্যে হোসেনকে ধারণ করতে হবে এবং এজিদকে বর্জন করতে হবে। ত্যাগের শিক্ষা গ্রহন করতে হবে ইসলামের জন্য নবীর জন্য এটাই আমাদের মূল শিক্ষা।
তিনি আরো বলেন, আমরা কারবালার স্থায়ী উত্তরাধিকারী হতে চাই। কারণ কারবালার যুদ্ধ ছিলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে। আমরা সত্যিকারের মুমিন হতে চাই কারবালাকে বুকে ধারণ করে মূত্যুবরণ করতে চাই। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, তোমাদের হাতেই আমাদের ভবিষত, তোমরাই খুজে বের করো, কারা স্বার্থনেশ্বী ভাবে ধর্মের অপব্যবহার করছে।
সেমিনারে জিএম এস আহম্মদ রেজার এসো সুন্নাহ শিখি বইয়ের মোড়ক উম্মোচন করেন প্রধান অতিথি ও সভাপতিসহ অতিথিবৃন্দ। সেমিনারে শেষে কুইজ ও প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয় এবং বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। সেমনিার শেষে দেশ ও মুসলিম উম্মাহর জন্য বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক মন্ডলী, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।