জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ২০২৬ সালের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের আয়োজনে ‘গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা: প্রেক্ষিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২৬ জুলাই ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শ্রেণি কক্ষে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন। তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান আমাদের জাতীয় ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। মানুষের অধিকার, মর্যাদা, বৈষম্যহীনতা, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা থেকেই এই আন্দোলনের সূত্রপাত। তাই জুলাইকে শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে স্মরণ করলেই হবে না; এর অন্তর্নিহিত শিক্ষা ও চেতনাকে আমাদের প্রতিদিনের জীবন ও কর্মে ধারণ করতে হবে।
তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মত্যাগকারী, শহীদ এবং আহত ও পঙ্গুত্ব বরণকারীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে তিনি বিশেষভাবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শিক্ষার্থী ইকরামুল হক সাজিদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। উপাচার্য বলেন, জুলাই আমাদের শিক্ষা দেয়—রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতিটি স্তরে যার ওপর যে দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, তা সততা, নিষ্ঠা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে পালন করতে হবে। বিশেষ করে বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের যে আস্থা ও প্রত্যাশা রয়েছে, তা রক্ষায় বিচারকদের অবশ্যই সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে কোনো ধরনের প্রভাব বা পক্ষপাতিত্বের ঊর্ধ্বে থেকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে দেশের বিচারব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাই তাঁদের বিবেককে জাগ্রত রেখে, আল্লাহকে সাক্ষী মেনে এবং কোনো প্রকার প্রভাব বা পক্ষপাতিত্বের ঊর্ধ্বে থেকে ন্যায় ও সত্যের পক্ষে কাজ করতে হবে। অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না, আবার যথাযথ সাক্ষ্য-প্রমাণ ছাড়া কারও প্রতি অবিচারও করা যাবে না।
তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে এবং অতীতের ভুল ও অন্যায় থেকে শিক্ষা নিতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর অন্ধ সমর্থন নয়; বরং ন্যায়, জবাবদিহিতা, গঠনমূলক সমালোচনা এবং মানুষের অধিকার রক্ষার মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে। জুলাইয়ের মূল চেতনা ছিল মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা। তাই ভবিষ্যতে যেন আর কোনো মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ণ না হয় এবং কোনো ধরনের বৈষম্য, অন্যায় ও নিপীড়নের পুনরাবৃত্তি না ঘটে—এ বিষয়ে সবাইকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে।
উপাচার্য বলেন, জুলাইকে শুধু একটি নির্দিষ্ট সময়ে উদযাপন না করে এর শিক্ষা ও চেতনাকে প্রতিদিনের জীবন ও কর্মে বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি বিশ্বাস করেন, আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতের বিচারব্যবস্থায় ন্যায়, নিরপেক্ষতা ও মানবাধিকারের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাঁদের হাত ধরেই একটি ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
আইন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোঃ শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আলোচক হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোঃ শেখ গিয়াস উদ্দিন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসান, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনসহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ।
এ সময় আইন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অন্যান্য অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

