logo

Copyright ©2024 Jagannath University. All Rights Reserved

News

অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা

  • Published
  • 03 Aug, 2026
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২০২৬ সালের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ইনস্টিটিউট ও বিভাগে আয়োজিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই ২০২৬) অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের শ্রেণিকক্ষে আয়োজিত এ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্‌দীন। অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শামীমা বেগমের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্‌দীন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত তাৎপর্য ও পটভূমি নিয়ে আরও গবেষণা করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে জুলাইয়ের চেতনাকে জাতীয় পর্যায়ে কতটুকু ধারণ করা হয়েছে, তা মূল্যায়ন করতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে সমাজে বৈষম্যহীন সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সর্বাবস্থায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে দেশের সর্বস্তরের মানুষ আন্দোলনে শরিক হয়েছিল। শিক্ষার্থীরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের জাতীয় বীর। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে দুঃশাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল বলেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে।
উপাচার্য বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে; তবে কোনোভাবেই ২০২৪ সালের ঘটনাকে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সমপর্যায়ে বিবেচনা করা যাবে না। মহান মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনো ঘটনা তুলনীয় নয়। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে আকাঙ্খা নিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছিল সে আকাঙ্খা পূরন হয়নি বলে জুলাই সংঘটিত হয়েছে। জুলাইয়ের চেতনাকে আমাদের মননে ধারণ করতে হবে এবং এর শিক্ষা বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমরা বাকস্বাধীনতা ও কথা বলার সুযোগ ফিরে পেয়েছি। তবে স্বাধীনতার অর্থ কারও ব্যক্তি চরিত্র হনন করা নয়। স্বাধীনতার সঠিক চর্চার মাধ্যমে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও দায়িত্বশীলতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, প্রতিষ্ঠার ২১ বছরেও এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। অথচ একই সময়ে প্রতিষ্ঠিত অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় অবকাঠামোগতভাবে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। প্রত্যেকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করলে ভবিষ্যতে নতুন করে কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদী পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার সুযোগ থাকবে না।
আলোচনা সভা শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।