জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২০২৬ সালের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ইনস্টিটিউট ও বিভাগে আয়োজিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলা বিভাগে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: গণতন্ত্রের পুনরূদ্ধার ও সম্ভাবনাময় নতুন বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
(২ আগস্ট ২০২৬) বাংলা বিভাগের সেমিনার রুমে আয়োজিত এ সেমিনার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন বলেন, বাংলা বিভাগ আমাদের প্রাণের বিভাগ, কারণ আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলি। ভাষার জন্য আমরা রক্ত দিয়েছি। পৃথিবীর ইতিহাসে এটি একটি বিরল দৃষ্টান্ত যে বাংলা ভাষার অধিকারের জন্য জীবন দিয়েছে আমাদের ভাষা শহিদ রফিকসহ প্রমূখ। ৫২ ভাষা আন্দোলনসহ বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে যেমন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় অবদান রয়েছে তেমনি বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা ২৪-এর অভ্যুত্থানের পিছেন তাদের অসামান্য অবদান রয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্জন ও প্রাপ্তির সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম যথাযথভাবে সামনে না এলেও দেশের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সবসময় সম্মুখসারিতে থেকেছেন।
তিনি বলেন, জুলাইকে আমাদের মন এবং মননে স্থান দিতে হবে। আমাদেরকে বারবার জুলাই নিয়ে গবেষণা করতে হবে কারণ এই জুলাইয়ে যারা আত্মহতি দিয়েছে বা প্রাণ বিসর্জন দিয়েছে তাদেরকে আমাদের জাতীয় বীর হিসেবে স্মরণ করতে হবে । জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত তাৎপর্য ও পটভূমি নিয়ে আরও গবেষণা করা প্রয়োজন। জুলাইয়ের চেতনা জাতীয় পর্যায়ে কতটুকু ধারণ করা হয়েছে, সেটিও মূল্যায়ন করতে হবে। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও অধিকারকে গভীরভাবে স্মরণ করার পাশাপাশি জুলাইয়ের চেতনাকে আমাদের অন্তরে ধারণ করে তা থেকে শিক্ষা নিতে হবে।
আলোচনা সভার সভাপতি অধ্যাপক ড. মোছা: শামীম আরা, বাংলা বিভাগ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন, অধ্যাপক ড. আরজুমন্দ আরা বানু। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও কলা অনুষদের ডিন, অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম, ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শহীদ কাদের চৌধুরিসহ প্রমুখ। আলোচনা সভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের উপর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে স্মৃতিচারণ করা হয়। এ সময় বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।



