জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২০২৬ সালের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ইনস্টিটিউট ও বিভাগে আয়োজিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে লোক প্রশাসন বিভাগে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: গণতন্ত্রের পুনরূদ্ধার ও সম্ভাবনাময় নতুন বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
২ আগস্ট ২০২৬, লোক প্রশাসন বিভাগের সেমিনার রুমে আয়োজিত এ সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন বলেন, লোক প্রশাসন বিভাগ খুব বেশি প্রাচীন বিভাগ নয় যদিও কিন্তু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে বিকশিত করার মতো যে কয়টি বিভাগ আছে তার মধ্যে অন্যতম হলো লোক প্রশাসন বিভাগ। লোক প্রশাসন মানে কি মানুষের প্রশাসন বা জনপ্রশাসন যেটাই বলি না কেন আমরা। তাহলে একটি দেশের প্রশাসন জনগণের কল্যাণেই তো সেই ফিলোসফি এবং তাত্ত্বিক প্রাতিষ্ঠানিক স্টাডিটা যে দু একটি বিভাগ দেওয়া হয়। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিভাগ হল লোক প্রশাসন বিভাগ। একটি দেশের রাষ্ট্রের পলিসি কি হবে প্রশাসনের পলিসি কি হবে, জনগণ কোন পলিসিতে সুফল পাবে, প্রশাসন দ্বারা জনগণের অধিকার নিশ্চিত হবে যাবতীয় সব পলিসিগুলো আমার দৃষ্টিতে আমি যেটুকু বুঝি সাধারণ জ্ঞানে সেটা আমাদের লোক প্রশাসন বিভাগ অথবা রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ এই রিলেটেড বিভাগ গুলোই সেটা নির্ধারণ করে থাকে।
উপাচার্য বলেন, জনগণের দ্বারা প্রশাসন পরিচালিত না হয়ে একটি বিশেষ দলের বা দর্শনের প্রশাসন অথবা একটি বিশেষ আদর্শের প্রশাসন সেটা সংঘটিত হয়েছিল বা বিরাজমান ছিল বলেই ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল। এটা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। আমাদের জাতীয় সংগীতে আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি-এর চেয়ে মধুর বানী আর কি আছে? এই দেশটাকে যদি কেউ ধারণ করে তার দ্বারা কখনো ফ্যাসিবাদি মনোভাব পোষণ করা সম্ভব নয়। ওমা তোর বদনখানি মনিল হলে আমি নয়ন জলে ভাসি। আমার দেশের এই অবস্থায় আমি মনে করি সত্যিকারে একজন দেশ প্রেমিক তার চোখে তো জল আসার কথা এবং সে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল বিধায় ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান মানুষ কিন্তু রুখে দাঁড়িয়েছে। এই অভ্যুত্থান ছিল এই দেশ দেশমাতৃকাকে সত্যিকার ভাবে অন্তরে ধারণ করে দেশের মানুষের কল্যাণে যেন প্রশাসন পরিচালিত হয় তার পরিবর্তন।
ু
তিনি আরো বলেন, গণঅভ্যুত্থানে প্রায় দুই হাজার চারশত শহিদ শাহাদাত বরণ করেছে। আমাদের প্রতিনিয়ত জুলাই উদযাপন করতে হবে কারণ যাদের প্রাণের বিনিময়ে আজকে আমরা এই অনুষ্ঠান করার সুযোগ পাচ্ছি। তাদের যদি সেই আত্মত্যাগ না হতো তাহলে আমরা সেই সুযোগ পেতাম না । তাই তাদেরকে যুগে যুগে আমাদের কে স্মরণ করতে হবে। তেমনিভাবে আমাদের একাত্তরের শহিদদের অবদান স্মরণ করতে হবে। কারণ ৩০ লক্ষ শহিদের শাহাদাত বরণ করেছিল বিধায় আমরা একটি লাল সবুজের পতাকা পেয়েছি, একটি মানচিত্র ও একটি দেশ পেয়েছি। স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে আমি দাবি করতে পারি এর চেয়ে বড় অর্জন আর কি আছে। এই সুযোগটা যারা এনে দিয়েছে এখন আমাদের অফুরন্ত সম্ভাবনা এটা কি কাজে লাগাতে হবে। গণ অভ্যুত্থানের পরবর্তীতে আমরা কিন্তু আবার কিছু দেখা পেয়েছি ৭১ মুছে দিতে চাই সেটা যেমন আমাদের কাম্য নয় ঠিক তেমনিভাবে ২৪ কে মুছে দিক সেটাও আমাদের কাম্য নয়।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, এই দেশ আমার, জন্মভূমি আমার। তাই তোমাদেরকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, এ দেশটিকে কেউ যেন আর লুটে পুটে না খায়। সত্যিকারে দেশকে ভালবাসতে হবে। দেশটাকে এগিয়ে নিতে হবে। টিম জগন্নাথ স্লোগানকে সামনে রেখে সবাইকে নিয়ে নতুন আঙ্গিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে গড়ে তুলতে চাই। ফ্যাসিবাদী আচরনের কারণে এইদেশ থেকে স্বৈরশাসকে বিদায় করা হয়েছে। তাই তোমাদের এই দেশের হাল ধরতে হবে। আমরা কারো অধিকারকে ক্ষুন্ন করবো না। পরিবতর্নের মাধ্যমে আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে।
আলোচনা সভার সভাপতি অধ্যাপক ড. মো: নঈম আক্তার সিদ্দিক, চেয়ারম্যান লোক প্রশাসন বিভাগ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি(ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভুঁইয়া ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার(ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো: শেখ গিয়াস উদ্দিন।
আলোচক হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন ড. মো: আনিসুর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, জবি। আলোচনা সভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের উপর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে স্মৃতিচারণ করা হয়। এ সময় বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।



