জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সৌহার্দ্যপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিতকরণে সমঝোতা সভা শনিবার (১৫ আগস্ট ২০২৬) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীনের সভাপতিত্বে তাঁর কনফারেন্স কক্ষে এ সমঝোতা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ, ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য কামাল হোসেন, ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা ও বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সুরুজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ঢাকসু) জিএস এস এম ফরহাদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. মোশাররাফ হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোঃ শেখ গিয়াস উদ্দিন, প্রক্টর অধ্যাপক ড. আজম খান, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূঁইয়া, সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন এবং সহকারী প্রক্টরবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)-এর ভিপি, জিএসসহ অন্যান্য প্রতিনিধি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ছাত্র অধিকার পরিষদ, ছাত্রশক্তি, খেলাফত ছাত্র মজলিস ও ইনকিলাব মঞ্চের নেতৃবৃন্দ) উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে লালবাগ জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) তালেবুর রহমান, সহকারী কমিশনার (এসি) বদরুল হক, কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবিউল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভায় ৪ আগস্টের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রেক্ষাপট ও পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা উদ্ভূত পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধানের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে সব মত ও সংগঠনের পারস্পরিক সহাবস্থান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মত ও পথের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও অন্যের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং সহনশীল ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে সভায় ঐক্যমত পোষন করা হয়।
মতবিনিময় সভায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলোর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১৫ দফা সম্বলিত প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হয়। এই প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের জন্য পালনীয় একটি সার্বজনীন কোড অব কন্ডাক্ট প্রনয়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
উপাচার্য বলেন, জকসু সভাপতির উপস্থাপিত প্রস্তাবনার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সবার মতামত নিয়ে একটি সমন্বিত কোড অব কন্ডাক্ট তৈরি করা হবে। ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসে ছাত্রসংগঠনগুলোর রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে এটি একটি গাইডলাইন হিসেবে কাজ করবে।
তিনি বলেন, “মত ও সংগঠন যার যার, জবি পরিবার আমার, সবার”—এই চেতনাকে ধারণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব সংগঠনকে সৌহার্দ্য, সহনশীলতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। মত ও পথের ভিন্নতা গণতান্ত্রিক পরিবেশের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য; কিন্তু সেই ভিন্নতার মধ্যেও অন্যের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সম্মান করাই একটি সুন্দর ও সহাবস্থানমূলক ক্যাম্পাস সংস্কৃতির ভিত্তি।
উপাচার্য আরও বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও অবস্থান ভিন্ন হতে পারে এবং ভুল বা অসংগতির সমালোচনাও হতে পারে। তবে কোনো অবস্থাতেই ব্যক্তিগত আক্রমণ, অশালীন ভাষা বা পারিবারিক পরিচয় তুলে অবমাননাকর বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও শালীনতার মধ্য দিয়েই মতপার্থক্যের চর্চা হওয়া উচিত।
সভায় উপস্থিত সবাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে এগিয়ে নিতে ঐক্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও দায়িত্বশীল আচরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে ৪ আগস্টের ঘটনার পর সৃষ্ট পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সহযোগিতা ও সংযত ভূমিকার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।




